• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে > জাপানের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে টোকিওতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার

জাপানের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে টোকিওতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৮
  • ১২

---

ইবি রিপোর্ট

জাপানের পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে দুই দেশের পর্যটন অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার’। এতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও World Air-Sea Service Co. Ltd.-এর যৌথ আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাপানের পর্যটন খাতে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি এবং বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহী ভ্রমণপিপাসুরা অংশ নেন। আয়োজনটির মধ্য দিয়ে জাপানের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সম্ভাব্য ভ্রমণকারীদের কাছে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

সেমিনারে জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্কের প্রচলিত ক্ষেত্রগুলোর পাশাপাশি পর্যটনের মতো উদীয়মান খাতেও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে জাপানি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আরও পরিচিত করে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত দেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করেন। সুন্দরবন, কক্সবাজার ও টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো স্থানগুলো বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উল্লেখযোগ্য সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এসব এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সক্ষমতা রাখে বলে সেমিনারে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও বাগেরহাটের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব স্থানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস ও সংস্কৃতির সম্পর্ক রয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের বৈচিত্র্য রয়েছে—সেমিনারে সেই দিকটি গুরুত্ব পায়।

দেশের পর্যটন আকর্ষণের তালিকায় শুধু প্রাকৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়, লোকসংস্কৃতিও রয়েছে বলে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে উঠে আসে। বাংলাদেশের হস্তশিল্প, বাউল সংগীতসহ বিভিন্ন লোকজ ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে দেশের খাবারের নিজস্ব ঐতিহ্যও পর্যটন অভিজ্ঞতার একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূত জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুত ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও তিনি জানান।

জাপানি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করে রাষ্ট্রদূত তাঁদের দেশে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাপানের পর্যটন খাতে কাজ করা ব্যক্তি ও ভ্রমণকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আগ্রহীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিষয়টি সামনে আনা হয়।

সেমিনারে World Air-Sea Service Co. Ltd.-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইযোসুকে কি কুমা বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইযোসুকে কি কুমা আশা প্রকাশ করেন, টোকিওতে আয়োজিত এ সেমিনার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পর্যটন খাতে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। তাঁর বক্তব্যে পর্যটনকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ পায়।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে পর্যটনকে সামনে আনার বিষয়টি এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গুরুত্ব পেয়েছে। এতদিন দুই দেশের সহযোগিতার আলোচনায় বিভিন্ন প্রচলিত খাতের পাশাপাশি এখন পর্যটনের সম্ভাবনাও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও খাবারের বৈচিত্র্যকে একসঙ্গে উপস্থাপন করে জাপানি পর্যটকদের কাছে দেশের একটি বিস্তৃত পর্যটনচিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

একটি দেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু দর্শনীয় স্থাননির্ভর নয়। পর্যটকের যাতায়াত, থাকার সুযোগ, নিরাপত্তা, ভিসা প্রক্রিয়া এবং ভ্রমণের সামগ্রিক স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেও বিষয়টি যুক্ত। টোকিওর সেমিনারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হওয়ায় পর্যটকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের কারণে এ আয়োজন ব্যবসায়িক ও পর্যটন সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভ্রমণপিপাসু জাপানি নাগরিকদের সামনে বাংলাদেশের বিভিন্ন গন্তব্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরার মাধ্যমে দেশটির পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে এটিকে দেখা যায়।

সেমিনারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে পর্যটন গন্তব্য ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও খাবার—সবকটি ক্ষেত্রই রয়েছে। ফলে জাপানি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে একক কোনো গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈচিত্র্যময়ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত জাপানি ব্যক্তি ও ভ্রমণকারীদের সরাসরি বাংলাদেশের সম্ভাবনার সঙ্গে পরিচিত করানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে এ খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকতে পারে।

টোকিওতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনারে তাই একদিকে বাংলাদেশের পর্যটন সম্পদের পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পর্যটনের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও উঠে এসেছে আয়োজকদের বক্তব্যে। প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সামনে রেখে জাপানের পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের পর্যটন যোগাযোগকে আরও বিস্তৃত করার একটি ভিত্তি তৈরি করতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18600 ,   Print Date & Time: Wednesday, 30 September 2026, 12:29:47 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh