• হোম > দেশজুড়ে > ২৩৫ ইউনিটের ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, জিএমসহ ৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

২৩৫ ইউনিটের ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, জিএমসহ ৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩০
  • ১৬

---

 

ইবি রিপোর্ট

মাগুরায় এক আবাসিক গ্রাহকের ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি টাকার অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের পর মাগুরার মহম্মদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম শাহিন আহসানকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

মো. মহিতুল ইসলাম ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী।

তাঁদের মধ্যে মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্য তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া খাতুনের নামে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল ইস্যু করে পল্লী বিদ্যুতের আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়।

অস্বাভাবিক এই বিলের বিষয়টি জানাজানি হলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিলটি সংশোধন করে। সংশোধিত বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। পরে ওই বিলই পরিশোধ করেন গ্রাহক আলেয়া খাতুন।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতাবশত সিল নম্বর ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসানো হয়েছিল। এর ফলে অস্বাভাবিক ও অবিশ্বাস্য বিল তৈরি হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনকে ফোন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

ফোনালাপে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় আলেয়া খাতুন যে মানসিক বিড়ম্বনা ও উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন, সে জন্য তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও তাকে অনুরোধ করেন তিনি।

ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আলেয়া খাতুন বলেন, মন্ত্রী বেশি কিছু বলেননি, শুধু দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একাধিক ফোন আসায় তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত সংশোধিত বিল প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির প্রাথমিক নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18596 ,   Print Date & Time: Wednesday, 30 September 2026, 12:29:18 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh