
ইবি রিপোর্ট
গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স (জিআইআই) ২০২৬-এ দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশের মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ১৩৯টি অর্থনীতির এই সূচকে ২১ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। অন্যদিকে নেপাল এক ধাপ এগিয়ে ১০৪তম অবস্থানে থাকায় আঞ্চলিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও নিচে নেমেছে।
জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন (WIPO) মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘পাওয়ারিং এন্টারপ্রেনারস অ্যাট দ্য ফ্রন্টিয়ার অব সায়েন্স’ শিরোনামে গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সের ১৯তম সংস্করণ প্রকাশ করেছে। এবারের সূচকে ১৩৯টি অর্থনীতির উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৪০ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ৩৮তম অবস্থানে রয়েছে। এরপর ভুটান ৭৪তম, শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, পাকিস্তান ৯৫তম, নেপাল ১০৪তম এবং বাংলাদেশ ১০৫তম অবস্থানে রয়েছে। WIPO-এর আঞ্চলিক শ্রেণিবিন্যাসে এই দেশগুলো সেন্ট্রাল ও সাউদার্ন এশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইনোভেশন ইনপুটের তুলনায় আউটপুটে অবস্থান কিছুটা ভালো। ইনোভেশন আউটপুটে বাংলাদেশের অবস্থান ৯২তম, যেখানে ইনপুটে অবস্থান ১১৫তম।
ইনোভেশন ইনপুটের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অবকাঠামোয় বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম এবং বাজার সক্ষমতায় ৯৮তম।
তবে মানবসম্পদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। ব্যবসায়িক সক্ষমতায় ১২৫তম এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, ইনোভেশন আউটপুটের দুটি প্রধান স্তম্ভের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম। সৃজনশীল উৎপাদনে অবস্থান ৮৭তম।
WIPO-এর বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের উদ্ভাবন সক্ষমতার সঙ্গে গবেষণা, অবকাঠামো এবং উদ্ভাবন-সংশ্লিষ্ট সংযোগ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।
জ্ঞান হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, উদ্ভাবনে এগোতে হলে বাংলাদেশকে প্রথমে জ্ঞান, মানবসম্পদ, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রতিষ্ঠান ও প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
তার মতে, শুরুতেই নতুন উদ্ভাবন তৈরির পরিবর্তে অন্যান্য দেশের উদ্ভাবনকে বাংলাদেশের স্থানীয় প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজে লাগানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০২৬-এ ৬৬ দশমিক ৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটি টানা ১৬তম বছরের মতো সূচকের প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে। এরপর রয়েছে সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর। ১০ নম্বর অবস্থানে রয়েছে চীন।
WIPO জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জিআইআইয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, উচ্চপ্রযুক্তি বাণিজ্য, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং মেধাস্বত্ব লাইসেন্সিংসহ প্রায় ৮০টি সূচক ব্যবহার করে প্রায় ১৪০টি অর্থনীতির উদ্ভাবনী সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এবারের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম হওয়ায় দেশের উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে মানবসম্পদ, গবেষণা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।