
ইবি রিপোর্ট
টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে দুই বাজারের মূল্যসূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরুর পর থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। এতে লেনদেনের শুরুতেই সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। দিনভর এই ধারা অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার তালিকা বড় হয় এবং সবকটি মূল্যসূচক নিয়ে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে মোট ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৯টির দাম কমেছে এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২২টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৯টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়লেও ১৩টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজারে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট বেড়েছে। দিন শেষে সূচকটি ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচকের পাশাপাশি বুধবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। দিন শেষে বাজারটিতে মোট ৬৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
অর্থাৎ আগের কার্যদিবসের তুলনায় বুধবার ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২২ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা।
ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সায়হাম টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, নিটল ইন্স্যুরেন্স, ইভিন্স টেক্সটাইল এবং এনভয় টেক্সটাইল।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বুধবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৭টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৪টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার প্রবণতার ফলে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪১ পয়েন্ট বেড়েছে।
এদিন সিএসইতে মোট ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে এই বাজারেও লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
টানা চার কার্যদিবসের দরপতনের পর বুধবার দেশের দুই শেয়ারবাজারে সূচক, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম এবং লেনদেনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেল।