• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > দুই প্রধানমন্ত্রী বসলে কোনো প্রশ্নের সমাধান অসম্ভব নয়: ভারতীয় হাইকমিশনার

দুই প্রধানমন্ত্রী বসলে কোনো প্রশ্নের সমাধান অসম্ভব নয়: ভারতীয় হাইকমিশনার

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৮
  • ১৭

---

 

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যেই আগ্রহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে বৈঠকে বসবেন এবং এ ধরনের বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সফরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী কোনো না কোনো সময়ে বৈঠকে বসবেন—এটি নিশ্চিত। তবে দুই দেশের মধ্যে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সেগুলো নেই মনে করা ঠিক হবে না। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা যখন মুখোমুখি বসবেন, তখন এমন কোনো প্রশ্ন নেই যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মানুষের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশেই এ বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন উভয় দেশের মানুষই আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাইকমিশনারের ভাষ্য, এটি একটি ইতিবাচক বিষয়। দুই দেশের মানুষই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে সফরটি হতে পারে। তিনি বলেন, সফরের সময় পারস্পরিক সম্মান ও সুবিধাজনক পরিবেশ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠকের জন্য সুবিধাজনক সময় দিতে হবে। সফর আয়োজন নিয়ে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তার মতে, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। কারণ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলে সেখানে আলোচিত বিষয়গুলোর বাস্তব ফলাফলও থাকা উচিত।

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে এসব বিষয়ে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা মাস চূড়ান্ত হয়নি। নভেম্বর নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তিনি চান সফরটি যত দ্রুত সম্ভব হোক। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারত সম্ভাব্য নভেম্বর সফরের জন্য সময় খুঁজছে। তবে উভয় পক্ষই জানিয়েছে, সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও মন্তব্য করেন দিনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের মানুষের মধ্যে পানি, ক্রিকেট, ফুটবল, বাণিজ্য, কবিতা, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতসহ নানা ক্ষেত্রে যোগাযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ওপর সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে তিনি লালন, কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা উল্লেখ করেন। নিজেকে সংস্কৃতির জগতের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি একেবারেই আশাবাদী।

গণতন্ত্রে জনগণের প্রত্যাশার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত মানুষ কী চায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মানুষই সম্পর্কের একটি ‘গোল্ডেন চ্যাপ্টার’ বা নতুন ইতিবাচক অধ্যায় দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তার সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তারেক রহমানের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই নেতার চিন্তায় সাধারণ মানুষের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলে তার ফলাফলও থাকা প্রয়োজন। শুধু বৈঠক করলেই হবে না, সেখানে আলোচিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তাদের পর্যায়ে আগেই কাজ করতে হবে।

এ কারণে সম্ভাব্য সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ থেকে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বক্তব্য আসছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী করার এবং বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সব বিষয় নিয়ে আলোচনার আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে একদিকে সফর নিয়ে আশাবাদ, অন্যদিকে বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব—দুই বিষয়ই উঠে এসেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18576 ,   Print Date & Time: Wednesday, 30 September 2026, 11:34:56 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh