
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) আয়োজনে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিসিক চাকরি মেলা-২০২৬’। চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চাষাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ভবনে এ চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জ জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ রাখা হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন জেলার মোট ৪৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চাকরি মেলায় অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন পদে মোট ৬৩৯টি চাকরির সুযোগ ছিল।
মেলায় চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়। পরে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন সরাসরি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ ও যোগ্য জনবল খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়, ঢাকার পরিচালক মানছুরুল করিম।
বিসিক কর্মকর্তারা জানান, দেশের শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে চাকরি মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এ ধরনের আয়োজনে।
তিন জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে থাকা ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এবং ৬৩৯টি চাকরির সুযোগের কারণে এবারের মেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন। আবেদন ও প্রাথমিক বাছাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।
আয়োজকদের মতে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের চাকরি মেলা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতেও শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সংযোগ তৈরি করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।