• হোম > আন্তর্জাতিক | বিজ্ঞান প্রযুক্তি | বিদেশ > এআই নয়, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’: প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

এআই নয়, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’: প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫১
  • ১৯

---

 

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জড়ো হয়েছিলেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কয়েকজন নির্বাহী। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি, প্রযুক্তিটির নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীরা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড’ নামে পরিচিত এই চুক্তির মাধ্যমে এআই কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রযুক্তির ওপর স্বনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করবে। চুক্তিটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও এতে স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নৈতিকভাবে এর শর্ত মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান এবং অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, এআই কোম্পানিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেরাই করবে। অর্থাৎ, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি আইনি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো স্বেচ্ছায় নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করবে।

চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প আরও জানান, এতে স্বাক্ষরকারীদের আইনগতভাবে বাধ্য করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে তারা যে প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করেছেন, সেটি নৈতিকভাবে মেনে চলার দায়িত্ব তাদের রয়েছে।

‘হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড’-এর নথিতে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে চুক্তিতে উল্লেখ করা পদক্ষেপগুলোকে পরবর্তী সময়ে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রযুক্তিটির বিকাশ এবং এর প্রভাবের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এসব স্বেচ্ছামূলক পদক্ষেপকে আইনগত রূপ দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

এদিকে, বৈঠকের পর এআই নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ওভাল অফিসের বাইরে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচলিত ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নামটি পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ বলা হবে।

ট্রাম্পের যুক্তি, এই প্রযুক্তিকে ‘কৃত্রিম’ বলা যথাযথ নয়। তাই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা ও সক্ষমতাকে আরও যথাযথভাবে তুলে ধরে বলে তিনি মনে করেন।

এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের দপ্তর থেকে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে ফেডারেল সরকারকে ভবিষ্যতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী আদেশে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা এবং দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দকে বেশি উপযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে আলোচনা চলছে, তার মধ্যেই হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বনিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগ সামনে এলো। চুক্তিটির মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের উন্নত এআই ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

তবে চুক্তিটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হওয়ায় এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, সেটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুতি পালনের ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে চুক্তির আওতায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে আইনি কাঠামোয় যুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18542 ,   Print Date & Time: Wednesday, 30 September 2026, 10:35:59 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh