• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > অক্টোবর-নভেম্বরে ১৯ কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত

অক্টোবর-নভেম্বরে ১৯ কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত

  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:২২
  • ১৬

---

 

ইবি রিপোর্ট

আগামী দুই মাস অক্টোবর ও নভেম্বরে দেশে মোট ১৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরে ১০ কার্গো এবং নভেম্বরে ৯ কার্গো এলএনজি দেশে আসবে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বাসস।

পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্র জানায়, অক্টোবরে নিশ্চিত হওয়া ১০ কার্গোর মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আসবে ২ কার্গো এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আসবে ৫ কার্গো।

নভেম্বরে আমদানি করা হবে আরও ৯ কার্গো এলএনজি। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৬ কার্গো এবং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৩ কার্গো আসবে। এসব এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কেনা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এলএনজিবাহী কার্গো নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। চাহিদা অনুযায়ী মোট ১৯ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গ্যাস নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না।

বাসসকে তিনি বলেন, পেট্রোবাংলা ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে পরবর্তী তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এর ফলে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা থাকবে না।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। অন্যদিকে এলএনজি আমদানি, কার্গো শিডিউলিং, চুক্তি নেগোশিয়েশন ও বাস্তবায়ন এবং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি আরপিজিসিএল।

আরপিজিসিএলের তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি এলএনজি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি থাকে। সেই হিসাবে অক্টোবর ও নভেম্বরের ১৯ কার্গোতে মোট প্রায় ৬ কোটি ৮ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি নিশ্চিত হয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে বাসস জানায়, দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এসব কার্গো দেশে পৌঁছাবে। পরে তা জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

আমদানি করা এলএনজি প্রথমে সমুদ্রপথে দেশের এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছায়। সেখানে এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে পুনঃগ্যাসীকরণ বলা হয়। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান জানান, অক্টোবর ও নভেম্বরের জন্য মোট ১৯ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কেনা হয়েছে।

তিনি জানান, নিশ্চিত হওয়া কার্গোগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা এলএনজি রয়েছে। পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও কার্গো কেনা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী আমদানি নিশ্চিত হওয়ায় আগামী কয়েক মাস এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।

আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার এনার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।

এ ছাড়া ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ।

চাহিদা অনুযায়ী অক্টোবর ও নভেম্বরের জন্য ১৯ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কার্গোগুলো দেশে পৌঁছানোর পর তা পুনঃগ্যাসীকরণের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18532 ,   Print Date & Time: Wednesday, 30 September 2026, 09:35:47 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh