
ইবি রিপোর্ট
বঙ্গোপসাগরে অফশোর জ্বালানি অনুসন্ধান ও উৎপাদনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এনার্জিস সামিটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামিটের স্ট্র্যাটেজিক স্টেজে মিনিস্টেরিয়াল অ্যাড্রেসে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি দেশীয় গ্যাস ও জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই বিডিং রাউন্ডে বঙ্গোপসাগরের মোট ২৬টি ব্লক বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক রয়েছে।
সামিটে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিও তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান গতি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের সহায়ক নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
এ সময় বাংলাদেশের অফশোর অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক সিসমিক তথ্যের প্রাপ্যতা এবং অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট ২০২৬-এর প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক শর্ত সম্পর্কে জানানো হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দেশের ভূতাত্ত্বিক ও সিসমিক তথ্য পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চলমান অফশোর বিডিং রাউন্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সামিটের প্রথম দিনেই চারটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সাইডলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে চলমান অফশোর বিডিং রাউন্ডের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হয়।
আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে চলমান বিডিং রাউন্ডে অংশ নেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সামিটের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বের বড় আরও চারটি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।