
ইবি রিপোর্ট
আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের সুযোগ চালু হচ্ছে। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে অর্থ আদান-প্রদান করতে পারবেন।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সম্প্রসারণে কিছু ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। তবে তার ভাষ্য, যারা বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না, ভবিষ্যতে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর লেনদেন সম্পন্ন হতো। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল দৈনিক গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি।
বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেন হচ্ছে। এসব লেনদেনের গড় আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, গত ১ জুলাই থেকে মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআরে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে নিয়ন্ত্রণমূলক সহজীকরণের অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর পাশাপাশি বাংলা কিউআরের কার্যকারিতা, প্রচার এবং মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলা কিউআর ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এসব কমিটি বাংলা কিউআর ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপ চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করছে।
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন গ্রহণে মার্চেন্টদের আরও উৎসাহিত করতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এর আওতায় সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে।
ফলে কোনো পণ্য বা সেবার মূল্য বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ জমা হওয়ার এই ব্যবস্থা বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আরও বাড়াবে।
১ অক্টোবর থেকেই বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাতিল করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে অথবা নামমাত্র খরচে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।
বাংলা কিউআর ব্যবহারে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে ১ অক্টোবর থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে।
এই ব্যবস্থায় সব মার্চেন্ট পয়েন্টে জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পাদিত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলা কিউআর ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের খরচ কমানো এবং মার্চেন্টদের দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।