• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > বিমানবহর বাড়াতে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কিনবে সরকার

বিমানবহর বাড়াতে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কিনবে সরকার

  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৭
  • ১০

---

 

ইবি রিপোর্ট

মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এয়ারবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং আগামী অক্টোবরে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজ পাওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণে সরকার বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনা করছে।

প্রস্তাবিত এয়ারবাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে সরকার। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারোবডি উড়োজাহাজ রয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে।

দুটি চুক্তি মিলিয়ে মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইডবডি—দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১৩টি ৭৮৭-১০—এবং ১০টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারোবডি উড়োজাহাজ রয়েছে।

তবে এসব উড়োজাহাজ একসঙ্গে দেশে আসবে না। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম বোয়িং উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে দেশে আসার কথা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০৩৫-৩৬ সাল পর্যন্ত উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করা হবে।

নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সক্ষমতা বাড়াতে লিজের মাধ্যমেও অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৭টি উড়োজাহাজ চলমান রয়েছে। এর সঙ্গে আরও ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করা গেলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে বিদ্যমান স্লটগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো তুলনামূলক বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে আরও ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। নিউইয়র্কে পুনরায় ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। পাশাপাশি সিডনি রুট চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানে বর্তমানে একটি ফ্লাইট চালু রয়েছে এবং সেখানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ বা শর্ত রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত কোনো চাপের কারণে নেওয়া হচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন এবং ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোন দেশ থেকে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। দেশের প্রয়োজন এবং অ্যাভিয়েশন খাতের স্বার্থ বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, কোন উড়োজাহাজ বাংলাদেশের জন্য উপযোগী, কোন উৎস থেকে কিনলে দেশ বেশি লাভবান হবে এবং কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অ্যাভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে, নতুন নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে এবং যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।

বিমানমন্ত্রী মনে করেন, ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের সংখ্যা ও ফ্লাইটের সক্ষমতা বাড়লে টিকিটের দাম কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের অ্যাভিয়েশন খাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। নিজস্ব এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দেশের বেশি যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হলে এ খাত থেকে আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থ দেশের মধ্যেই রাখার সুযোগ তৈরি হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18484 ,   Print Date & Time: Tuesday, 29 September 2026, 01:52:04 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh