
ইবি রিপোর্ট
পতিত আওয়ামী লীগের দোসরদের জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আশকারা দিয়ে মাঠে সক্রিয় করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক স্বার্থে জামায়াত-এনসিপি আওয়ামী লীগকে নরমালাইজ করার সুযোগ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন রাশেদ খান।
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নীরব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আবার সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য জামায়াত ও এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন তিনি।
রাশেদ খান তার পোস্টে মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেখ হাসিনার জন্মদিনে কোনো পোস্ট না দিলেও ২০২৬ সালে এসে মাশরাফি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করেছেন। এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফের প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, বড় ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার পরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ কেন আবার সক্রিয় হওয়ার সাহস পাচ্ছে, সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, বর্তমান বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি রাষ্ট্রকে অশান্ত করার রাজনৈতিক কর্মসূচি নিচ্ছে এবং তাদের এমন কর্মকাণ্ডের সুযোগেই আওয়ামী লীগের একটি অংশ মাঠে ফিরতে চাইছে।
বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ এবং আগামী ডিসেম্বরে সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। রাশেদ খানের দাবি, এসব কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত-এনসিপি আওয়ামী লীগের কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের দোসররাও আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি এসব ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন।
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হওয়ায় ক্ষমতায় গেলে দলের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সুবিধাবাদী মানুষের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। তার দাবি, এমন কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী অভিযোগও উঠেছে।
রাশেদ খান তার বক্তব্যে এসব ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে তা প্রতিরোধের আহ্বান জানান তিনি।
তবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষ থেকে রাশেদ খানের এসব অভিযোগের বিষয়ে এই বক্তব্যের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।