
ইবি রিপোর্ট
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভাল গোপন সফরে ঢাকায় এসেছিলেন বলে দাবি করেছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
তবে দোভালের ঢাকা সফরের বিষয়ে ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সফরের খবরটি দুই দেশের পক্ষ থেকেই স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়নি।
ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অজিত দোভালের কথিত সফর সম্পর্কে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে দোভালের ঢাকা সফরের দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট সূত্র উল্লেখ করেনি। তবে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এর আগে একটি সফর আয়োজনের চেষ্টা সফল না হলেও বাংলাদেশ ও ভারত আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আয়োজনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ আরও গতি পেতে পারে।
দুই দেশের সম্ভাব্য এই শীর্ষ পর্যায়ের সফরের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার জন্য অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের আলোচনায় রয়েছে। ফলে এই অমীমাংসিত বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো এবং মোদির পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। দুই নেতার মধ্যে এমন যোগাযোগ ভারত সফরের তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া ধারণা করছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে দুই দেশের সরকারপ্রধানের সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অজিত দোভালের কথিত ঢাকা সফর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর—দুই বিষয় নিয়েই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় এ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সফরের উদ্দেশ্য বা বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।