
ইবি রিপোর্ট
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ ধরনের প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের কিছুই অফার করিনি।’ রয়টার্সও জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে কোনো ছাড়ের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা জব্দ অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিনিময়ে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আগ্রহী।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ট্রাম্প সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেন এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ট্রাম্পের এই অস্বীকৃতির সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের যোগাযোগের কথা জানা গেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সংঘাত অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে নিউইয়র্কে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়েছিল। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি নতুন কোনো আলোচনার পরিকল্পনা না থাকার কথা জানিয়েছিল তেহরান।
চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে।
ইরান এর আগে প্রণালিটি পুনরায় খুলতে বিভিন্ন শর্তের কথা জানিয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবের খবর অস্বীকার করা হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে চলমান সংঘাতের মধ্যে দুই দেশের আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।