• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > স্বল্প বিনিয়োগে বেশি কর্মসংস্থানের শিল্পে অগ্রাধিকার দেবে সরকার

স্বল্প বিনিয়োগে বেশি কর্মসংস্থানের শিল্পে অগ্রাধিকার দেবে সরকার

  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমঘন উৎপাদন শিল্পকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির কার্যকর পথ হিসেবে দেখছে সরকার। স্বল্প মূলধন বিনিয়োগে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে—এমন শিল্প খাতকে আগামী দিনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে গতকাল বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিটাকের ‘আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় বিভিন্ন শ্রেণীতে ৭২২ প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৬৪২ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দেশের সব পর্যায়ে ও সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে।’

তিনি জানান, আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম উন্নয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিকে সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দেশে উৎপাদন শিল্পের পরিধি যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বাড়বে। বিটাক সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প একসঙ্গে বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তাই আগামীতে সরকার যে শিল্প খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে, তার মধ্যে এ খাত অন্যতম।’

মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো হবে। প্রশিক্ষণ শেষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়াকে এ কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জনের পর সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মসূচির সার্থকতা এখানেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, আগামীতে প্রকল্পটির আকার আরও বড় করা হবে। একই সঙ্গে বিটাককে আরও আধুনিক ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসসহ আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, ‘প্রযুক্তি ও শিল্পের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে; সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, কারিগরি দক্ষতা কোনোভাবেই উচ্চ শিক্ষার চেয়ে কম মর্যাদার নয়। আধুনিক শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান।

বিটাকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান, আরএফএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ এবং ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচএম আল মামুন প্রমুখ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18401 ,   Print Date & Time: Tuesday, 29 September 2026, 08:49:54 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh