
ইবি রিপোর্ট
ব্রাজিলের ফুটবলে তারকার অভাব কখনোই ছিল না। পেলে, গ্যারিঞ্চা, রোমারিও, রোনালদো, কাকা ও নেইমারের পর এখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, এস্তেভাও ও এন্দ্রিকদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। এই তরুণ প্রতিভাদের ঘিরেই ভবিষ্যতের ব্রাজিল জাতীয় দল গড়ে তুলতে চান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আনচেলত্তি। তার মতে, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে হলে তরুণ প্রতিভাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখতে হবে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে ব্রাজিলকে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারে এমন একটি নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করা আমাদের অগ্রাধিকার। এটাই মূল লক্ষ্য। আজ যে ২৬ জন দলে আছে, তাদের মধ্যে হয়তো সেরা খেলোয়াড়রা নেই। কিন্তু আমাদের কিছু একটা করতে হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, এমন তরুণ খেলোয়াড়কে অনুসরণ করতে হবে এবং তার ওপর নজর রাখতে হবে।’
তরুণদের জাতীয় দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত খেলার বিষয়টিকে সবসময় বাধ্যতামূলক হিসেবে দেখছেন না আনচেলত্তি। জাতীয় দলের ভবিষ্যতের জন্য কোনো খেলোয়াড়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে ক্লাবে নিয়মিত না খেললেও তাকে দলে ডাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আনচেলত্তি বলেন, ‘এক বছর আগে কোনো খেলোয়াড় ক্লাবে নিয়মিত খেলত না, তাহলে তাকে দলে ডাকা হতো না। এখন কোনো খেলোয়াড় তার ক্লাবে না খেললেও, যদি আমরা মনে করি জাতীয় দলের ভবিষ্যতের জন্য সে ভালো, তাহলে আমি তাকে দলে ডাকব।’
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারও মাঠে নামবে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সর্বশেষ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এটি ব্রাজিলের দ্বিতীয় পরীক্ষা।
তবে আনচেলত্তির কাছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধুই একটি প্রীতি ম্যাচ নয়। ব্রাজিলের জার্সির গুরুত্ব এবং জাতীয় দলের মর্যাদার কথা তুলে ধরে তিনি ম্যাচটিকে বিশ্বকাপের ম্যাচের মতোই গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘স্টাফ কিংবা খেলোয়াড়দের কেউই মনে করে না যে আমরা একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। আমরা এমন একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে মাঠে নামব, যে দেশটি ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর এই জার্সির অনেক ওজন আছে। আমাদের কাছে এটা কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়। আমাদের কাছে বিশ্বকাপের ম্যাচ আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ একই। আমরা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করি।’
ব্রাজিলের নতুন প্রজন্মের প্রতিভা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশটির ফুটবলের অতীত সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন আনচেলত্তি। তার মতে, ব্রাজিল বরাবরই অসাধারণ প্রতিভা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এই দেশ অসাধারণ প্রতিভা তৈরি করতে সক্ষম। ১৯৫০-এর দশকে তারা সেটা করেছে পেলে ও গ্যারিঞ্চার মতো ঐতিহাসিক খেলোয়াড়দের দিয়ে। এরপর রোমারিও, রোনালদো, নেইমার, কাকারাও এসেছে। এখন নতুন একটি প্রজন্ম রয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, এস্তেভাও, এন্দ্রিক…’
তবে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকলেই আগের মতো সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন ব্রাজিল কোচ। তার মতে, বর্তমান ফুটবলে প্রতিভাকে দলীয় কাঠামোর মাধ্যমে সমর্থন দিতে হবে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘সমস্যা হলো, প্রতিভা এখন ২০ বছর আগের মতো পার্থক্য গড়ে দেয় না। প্রতিভাকে দলীয়ভাবে সমর্থন দিতে হবে।’
ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কাজ নিয়ে ওঠা সমালোচনা নিয়েও কথা বলেছেন আনচেলত্তি। তবে এসব সমালোচনা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
আনচেলত্তির ভাষায়, ‘আমার কাজ নিয়ে সমালোচনা সবসময় ছিল এবং সবসময় থাকবে। এই সমালোচনা জাতীয় দল ও এই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ধারণাকে প্রভাবিত করে না।’
তরুণ প্রতিভাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, জাতীয় দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং দলীয় কাঠামোর মধ্যে তাদের বিকাশ—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ দল গড়ার পরিকল্পনা করছেন আনচেলত্তি।