• হোম > রাজনীতি > জামায়াতের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ এনসিপির বিরুদ্ধে: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ এনসিপির বিরুদ্ধে: রাশেদ খাঁন

  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০১
  • ২৪

---

 

ইবি রিপোর্ট

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করার অভিযোগ তুলেছেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, নির্বাচনী অর্থায়নের ওই অর্থ পরিশোধের জন্যই এনসিপিকে এখন ‘গণভিক্ষা’ কর্মসূচি চালু করতে হচ্ছে এবং জামায়াতের পক্ষে কাজ করতে হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি। তবে তার করা ১০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে পোস্টে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি রাশেদ খাঁন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জামায়াতের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে এনসিপি জাতীয় নির্বাচন করেছে। তার ভাষ্য, সেই অর্থ পরিশোধের জন্যই দলটিকে এখন গণভিক্ষা কর্মসূচি চালাতে হচ্ছে এবং জামায়াতের পক্ষে মাঠে নামতে হচ্ছে।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গেও এনসিপিকে নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, সামনে স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে আর অর্থ দেবে না—এমন আলোচনা রয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষেও তিনি কোনো নির্দিষ্ট সূত্র বা প্রমাণ উল্লেখ করেননি।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বন্যার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন গণভিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহে এনসিপি আবারও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম জোরদার করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপি যদি এককভাবে স্থানীয় নির্বাচন করে, তাহলে তিনি দলটির গণভিক্ষা তহবিলে ১ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন।

নিজের পোস্টে এনসিপির কয়েকজন নেতাকে নিয়েও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে রুমিন ফারহানার আগের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির নেতাদের বর্তমান জীবনযাপন ও আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রাশেদ খাঁনের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপির কয়েকজন নেতার জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আলিশান কার্যালয়, ফ্ল্যাট ভাড়া এবং তাদের কথিত ‘জমিদারি ভাবসাব’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এসব ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন করেন।

এ সময় তিনি এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে গত ১৮ মাসে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগও তোলেন। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে তার পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

পোস্টে বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন করলেও এনসিপির বর্তমান নেতাদের সে সময়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

একই সঙ্গে নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির নেতাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, জনগণ যদি তাদের ওপর আস্থা রাখত, তাহলে তাদের ক্ষমতায় বসানো হয়নি কেন—এমন প্রশ্নও তিনি তোলেন।

রাশেদ খাঁন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, বিএনপি এনসিপিকে জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল হিসেবে দেখতে রাজি না হওয়ায় এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে।

তার মতে, বিএনপির এই অবস্থানের কারণে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং বিরোধী দলের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে এনসিপিকে ‘ক্ষমতার জন্য’ দ্রুত রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তিত হওয়া দল হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলা দলটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।

এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও কয়েক বছর ক্ষমতায় থাকলে এনসিপির নেতারা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যেতেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

তবে রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য মূলত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মন্তব্য ও অভিযোগ। এসব অভিযোগের বিষয়ে এনসিপি বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18343 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 01:54:51 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh