• হোম > জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > অক্টোবর-নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা তারেক রহমানের

অক্টোবর-নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা তারেক রহমানের

  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮
  • ১০

---

 

ইবি রিপোর্ট

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের পর আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকায় আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জাপান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেওয়া পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে সফরগুলোর তারিখ ও কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিক আলোচনায় জাপান সফর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সময়সূচি নিয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন কপ-৩১। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন বা ইউএনএফসিসিসির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ বা কপ।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কপ-৩১ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মেলনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনার বিষয়টিও উঠে আসে।

এর আগে আগস্টে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নভেম্বরের কপ সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্ক সফর করবেন। কপ-৩১ আনতালিয়ায় ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তুরস্কের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি এবং বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে জাপান সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এ সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরে যেতে পারেন বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগে এশিয়া অঞ্চলে জ্বালানি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, জ্বালানি সংকটের মতো আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ কোনো দেশ এককভাবে সমাধান করতে পারবে না; এ জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।

দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের লক্ষ্যেই এ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখ চূড়ান্ত হলে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেওয়া আমন্ত্রণে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর লক্ষ্য দুই দেশের সরকার ও জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহযোগিতা বাড়ানো।

এদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে চলতি বছরের নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত মাসে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর শিগগিরই হওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভব।

তবে ভারত সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বৈঠকের তালিকায় ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।

নিউইয়র্ক সফরের পরই জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব সফরের চূড়ান্ত তারিখ, কর্মসূচি ও সফরসূচি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর নির্ধারিত হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18311 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 08:49:20 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh