• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > অর্থনীতির পুনরুত্থানে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব জোরদার বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: জহির স্বপন

অর্থনীতির পুনরুত্থানে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব জোরদার বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: জহির স্বপন

  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৪
  • ১১

---

 

ইবি রিপোর্ট

দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব আরও জোরদার করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী মর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সফররত চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য কমরেড ঝাও জুনমিন। অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের যে পথচলা শুরু হয়েছিল, পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে।’

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সুবিধাকে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান আরও দ্রুত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সুবিধার সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করা সম্ভব।’

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি জানান, চীন থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি করলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘চীন থেকে প্রতি বছর ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে।’

এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বিনামূল্যে একটি প্রদর্শন কেন্দ্র বা ডিসপ্লে সেন্টার এবং ২ হাজার বর্গকিলোমিটার সুবিধার স্টোরেজ বরাদ্দ দিয়েছে।

কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক যোগাযোগের নতুন অর্থনৈতিক করিডোর চালু হলে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক যোগাযোগের নতুন অর্থনৈতিক করিডোর উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশ ও চীন—উভয় দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

তার মতে, এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানেরও প্রশংসা করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18269 ,   Print Date & Time: Sunday, 27 September 2026, 01:21:22 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh