
ইবি রিপোর্ট
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর বা সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।
এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ হিসেবে ৩ নভেম্বর নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে মামলাটিতে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রায় ২০ বারের মতো সময় পেলেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এরপর গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
ডিবির দেওয়া চার্জশিটের পর বাদীর নারাজির ভিত্তিতেই মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তবে নির্ধারিত বিভিন্ন তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব না হওয়ায় বারবার সময় নেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শরীফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন এবং সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর ১৮ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদি মারা যান।
ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
মামলাটির তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। তবে বাদী ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন।
এখন সিআইডির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।