• হোম > অর্থনীতি > নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনে এডিবির ১০ কোটি ডলারের ঋণ

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনে এডিবির ১০ কোটি ডলারের ঋণ

  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৯
  • ১২

---

 

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন ঋণের সুযোগ বাড়াতে ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বিশেষ করে নারী এবং প্রচলিত ব্যাংকঋণের আওতার বাইরে থাকা পরিবারগুলো এ ঋণের সুবিধা পাবে।

এডিবির অর্থ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এর আওতাভুক্ত যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হবে। এসব ঋণ ব্যবহার করে পরিবারগুলো নতুন ঘর নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ঘর মেরামত ও উন্নয়ন করতে পারবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি এবং আবাসন ঋণ পাওয়ার সীমিত সুযোগ মোকাবিলায় এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো প্রচলিত আবাসন ঋণব্যবস্থার বাইরে থাকায় তাদের জন্য এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, আবাসন মানুষের মর্যাদা, সুযোগ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল বাড়ি নির্মাণে সহায়তার মাধ্যমে এ প্রকল্প দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানবসম্পদের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা থাকবেন।

এ ছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক ও ভূমিসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসনের অধিকার সম্পর্কেও মানুষকে সচেতন করা হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঋণগ্রহীতাদের স্বামী-স্ত্রীর বসবাসসংক্রান্ত ব্যবস্থার যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিত করতে ঘর নির্মাণের নকশা, নির্মাণপ্রক্রিয়া এবং দুর্যোগের ক্ষতি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থাও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় বাড়িগুলো আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।

এডিবি বলছে, প্রকল্পটি দেশের আবাসন অর্থায়নব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

একই সঙ্গে তথ্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্যোগের ঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল প্রতিবেদনব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আবাসন ঋণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও ঝুঁকিসচেতনভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

১০ কোটি ডলারের এ ঋণের মধ্যে ৪ কোটি ডলার এডিবির জলবায়ু অভিযোজন তহবিল থেকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরও ৬ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রচলিত ব্যাংকঋণের বাইরে থাকা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য আবাসন অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নারী ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18203 ,   Print Date & Time: Sunday, 27 September 2026, 07:36:34 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh