
ইবি রিপোর্ট
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা ক্লিনিক সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ বিব্রত। ঘটনায় জড়িত অন্য হামলাকারীদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্যের ইন্ধন ছিল কি না এবং এ বিষয়ে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে শনিবার মহাখালীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যে-ই হোক, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই অনুষ্ঠানে রাড্ডা সেন্টারের মালিকানা নিয়ে চলমান বিরোধের বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, রাড্ডা সেন্টারের মালিকানা নিয়ে যে বিরোধ রয়েছে, সেটি আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রাড্ডা সেন্টার একটি এনজিও পরিচালিত মাতৃসেবাকেন্দ্র ছিল। সেখানে টিকাদান ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যক্রমও পরিচালিত হতো। তবে জায়গাটির মালিকানা কার, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
জমি নিয়ে বিরোধ থাকা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো জমি নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও রাতের অন্ধকারে এভাবে কোনো স্থাপনা ভেঙে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত।
এর আগে রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও আড়াইশো ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে রাড্ডা সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ক্লিনিকের একটি পাকা এবং তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ লেখা রয়েছে। হামলার পর ওই সাইনবোর্ড সামনে আসায় জায়গাটির মালিকানা ও দখল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। মালিকানা বিরোধ, হামলার পেছনে কারও ইন্ধন ছিল কি না এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।