
ইবি রিপোর্ট
ঘরের মাঠে দীর্ঘ চার দশকের স্বর্ণপদকের খরা কাটানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দল। দক্ষিণ আমেরিকান গেমসের ফাইনালে টাইব্রেকারের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জিতেছে প্যারাগুয়ে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রোজারিওর মার্সেলো বিয়েলসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। এরপর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় সরাসরি টাইব্রেকারে। সেখানে ৫-৪ ব্যবধানে হেরে রৌপ্যপদক নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দিয়েগো প্লাসেন্তের শিষ্যদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্বাগতিক আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ করলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ ভেদ করে গোল আদায় করতে পারেনি তারা। পুরো ৯০ মিনিটে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি আলবিসেলেস্তেরা।
অন্যদিকে প্যারাগুয়েও পাল্টা আক্রমণ থেকে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে তাদের আক্রমণ থেকেও গোল আসেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় এবং শিরোপা নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
টাইব্রেকারে নিজেদের পাঁচটি শটের সবকটিই সফলভাবে জালে পাঠায় প্যারাগুয়ে। বিপরীতে আর্জেন্টিনার একজন ফুটবলার পেনাল্টি মিস করেন। এর ফলে ৫-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা।
পুরো টুর্নামেন্টেই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচেও প্যারাগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল স্বাগতিক দল।
এরপর ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারানোর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা জায়গা করে নেয় শেষ চারে। সেমিফাইনালে পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল প্লাসেন্তের দল।
ফাইনালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোলের দেখা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারেই নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য। সেখানে একটি শট মিস করায় স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা।
দক্ষিণ আমেরিকান গেমসের ফুটবলে আর্জেন্টিনা সর্বশেষ স্বর্ণপদক জিতেছিল ১৯৮৬ সালে। এরপর দীর্ঘ চার দশক ধরে এই সাফল্যের অপেক্ষায় ছিল তারা। এবার ঘরের মাঠে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ এলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের হতাশায় সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দক্ষিণ আমেরিকান গেমসে ফুটবলের স্বর্ণপদক জিতে নিজেদের জন্য স্মরণীয় এক অধ্যায় রচনা করেছে প্যারাগুয়ে।