
ইবি রিপোর্ট
গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে আয়োজিত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে এবং নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে—এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটলে গণতন্ত্র যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি রাষ্ট্রের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও বক্তব্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে একটি যোগসূত্র রেখে সবাইকে কাজ করতে হবে।
রিজভীর ভাষ্য, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউই রক্ষা পাবেন না। আগামীতে পাঁচ বছর পর যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে। বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে।
তবে গণতন্ত্রের অর্থ যা ইচ্ছা তা বলা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক বক্তব্যে রেটোরিক বা বক্তব্যের অলংকার থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় বলে উল্লেখ করেন রিজভী।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুটি লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। তার দাবি, শেখ হাসিনার আমলে এ ধরনের পরিস্থিতি ছিল ‘অবিশ্বাস্য’। সে সময় বিরোধী দলের রোডমার্চ ও লংমার্চে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হতো এবং সাধারণ মানুষও হামলার শিকার হতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রেও মার্জিত ভাষা ব্যবহার করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে যেসব ভাষায় আক্রমণের শিকার হয়েছে, তারা সেই ভাষার পুনরাবৃত্তি করতে চায় না। নিজেদের বক্তব্যে মার্জিত কিন্তু কঠোর ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল) এবং ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হকসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।