• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে | রাজধানী > বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক হত্যা, ৯ লাখ টাকায় আপস পরিবারের

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক হত্যা, ৯ লাখ টাকায় আপস পরিবারের

  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৯
  • ৫

---

ইবি রিপোর্ট

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে (২৪) গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় সই করে আসামির জামিন বা খালাসে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে আপসের বিষয়টি জানান।

আইনজীবী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই টাকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। আপসনামায় সই করে তারা আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি না থাকার কথা জানিয়েছেন।

আলমগীর হোসেন বলেন, নিহত মেহেদী বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং কানে শুনতে পেতেন না। দুর্ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। নিহতের মা-বাবা বয়স্ক হওয়ায় তাদের দেখাশোনার বিষয়টিও আপসের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে।

আপসনামাটি কোথায় করা হয়েছে জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান শান্তা মরিয়মের কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আপস হয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিহতের মামা ও ভাই এবং আসামিপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের পরিবারকে কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, তাদের কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়নি। তারা ৯ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে পোস্টমর্টেম করাতেও আপত্তি ছিল এবং তারা মামলা করতে চাননি বলে দাবি করেন তিনি।

মামলা কীভাবে হলো জানতে চাইলে আইনজীবী বলেন, দুর্ঘটনার কারণে পুলিশ মামলা করেছে।

একটি জীবনের মূল্য ৯ লাখ টাকা হতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীপক্ষ আপস করতে চেয়েছে। তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করলেও পরে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসান মীমকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দুর্ঘটনার পর গাড়িতে থাকা কিশোর আজান আলী শরীফকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গাড়ির চালকের আসন থেকে তাকে বের হতে দেখা যাওয়ার পর বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে এর আগে মামলায় চালকের আসনে থাকা কিশোরের বদলে অন্য একজনকে আসামি করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছিল। তবে তিনি পলাতক রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি আব্বাস আলী শরীফের পরিবারের বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/18026 ,   Print Date & Time: Thursday, 24 September 2026, 11:41:06 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh