
ইবি রিপোর্ট
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬২৪ জন কিশোরকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনার পর এটিই জেলার বড় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান।
অভিযানের পর কুমিল্লার সদর দক্ষিণ, কোতোয়ালি ও দাউদকান্দি মডেল থানায় বিপুলসংখ্যক অভিভাবক ভিড় করেন। রাত ৮টার দিকে শতাধিক অভিভাবক সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। এ সময় থানার ভেতরের আসবাবপত্র ও একটি দরজার অংশ ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তিনি বলেন, সন্ধ্যা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের খুঁজতে থানা ও গৌরীপুর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫৯ জনকে আটক করেছে।
ওসি জানান, আটক কিশোরদের বিষয়ে খবর পেয়ে অভিভাবকেরা থানায় এসে সন্তানদের ফিরিয়ে নিতে হট্টগোল শুরু করেন। কেউ কেউ বাইরে থেকে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার একটি অংশ খুলে ভেঙে যায়। লোকজনের ভিড়ে কয়েকটি চেয়ারও উল্টে যায়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।