
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী নই, আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার।’
পেজেশকিয়ান বলেন, আগের দিন জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানকে সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি ইরানকে সন্ত্রাসবাদের শিকার হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না এবং কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়।
এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার পদক্ষেপ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। পাশাপাশি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকিও দেন।
পেজেশকিয়ান ভাষণের শুরুতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ছবি তুলে ধরেন। এরপর হামলায় নিহত শিশুদের ছবিও প্রদর্শন করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়টি তুলে ধরে ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের সংঘাত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের বিষয়ে ইরানের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষণের সময় জাতিসংঘের সভাকক্ষ থেকে ইরানের প্রতিনিধিদলের বেশির ভাগ সদস্য বেরিয়ে যান। অন্যদিকে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলও সভাকক্ষ ত্যাগ করে।
৭১ বছর বয়সী পেজেশকিয়ান ২০২৪ সালের নির্বাচনে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় কট্টরপন্থি প্রার্থী সাঈদ জলিলিকে হারিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট হন।
পেশায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পেজেশকিয়ান ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় চিকিৎসক ও যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘদিন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন।