• হোম > অর্থনীতি > টাকায় আমদানি-রপ্তানি নিষ্পত্তির সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

টাকায় আমদানি-রপ্তানি নিষ্পত্তির সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২৯
  • ১৪

---

ইবি রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে টাকার ব্যবহার বাড়াতে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে দেশের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলো বিদেশি অংশীদার ব্যাংকের নামে টাকার ভস্ত্রো হিসাব খুলে আমদানি-রপ্তানি–সংক্রান্ত নির্ধারিত লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারবে। এ হিসাব খোলার জন্য শুরুতে অবাধে রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকছে না।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য অংশীদার দেশের ব্যাংকের নামে টাকার ভস্ত্রো হিসাব খোলা ও পরিচালনা করা যাবে। এসব হিসাবে আমদানির বিপরীতে পাওয়া অর্থ জমা হবে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে রপ্তানি মূল্য পরিশোধসহ নির্ধারিত অন্যান্য লেনদেন করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানি চুক্তি, ঋণপত্র ও চালানে অবাধে রূপান্তরযোগ্য বা অনুমোদিত মুদ্রা উল্লেখ করতে হবে। তবে চালানে ব্যবহৃত মুদ্রার মূল্য প্রচলিত বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তর করতে হবে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি আদান-প্রদানের নিয়মও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

নতুন ব্যবস্থায় আমদানিকারকের হিসাব থেকে বা স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট ভস্ত্রো হিসাবে জমা দেওয়া যাবে। একইভাবে, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ভিত্তিতে ওই হিসাব থেকে রপ্তানিকারকের হিসাবে অর্থ দেওয়া যাবে। আমদানির অগ্রিম অর্থ পরিশোধ এবং রপ্তানির বিপরীতে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থাও এর আওতায় রাখা হয়েছে।

রপ্তানির অর্থ টাকায় পাওয়ার ক্ষেত্রে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ কেনার অর্থও টাকায় পরিশোধ করতে হবে। তবে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানিকারকেরা নির্দিষ্ট অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। সেই অর্থ উপকরণ আমদানি বা বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে।

ভস্ত্রো হিসাবে উদ্বৃত্ত অর্থ শুধু বাণিজ্যিক লেনদেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল ও উন্মুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগেও তা ব্যবহার করা যাবে। অনুমোদিত সাপেক্ষে দেশীয় প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি হিসাবধারী ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশেও অর্থ পাঠানো যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব লেনদেনে আমদানি ও রপ্তানির প্রচলিত প্রতিবেদন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে অংশীদার ব্যাংকের বিষয়ে যথাযথ যাচাই, গ্রাহক পরিচিতি যাচাই এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের নিয়ম মানতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17941 ,   Print Date & Time: Wednesday, 23 September 2026, 02:12:43 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh