• হোম > চট্টগ্রাম | জাতীয় > ডিজিটাল ব্যবস্থায় বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা

ডিজিটাল ব্যবস্থায় বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা

  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৯
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

বিল পরিশোধ থেকে পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ, কনটেইনার ডেলিভারি ও জাহাজের ছাড়পত্র—চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবা ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাচ্ছে। কাগজের ব্যবহার ও সরাসরি দাপ্তরিক যোগাযোগ কমিয়ে পুরো কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বন্দরকে সম্পূর্ণ পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যে বন্দরের শতভাগ ভেসেল বিল অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিলও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ই-গেট পাস, গেট ইন-আউট, ভেসেল ই-এনওসি, অনলাইন কার্ট টিকিট এবং টাইম স্লট ব্যবস্থাপনাও ডিজিটাল করা হচ্ছে। এতে পণ্য খালাসের বিভিন্ন ধাপে ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ কমবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে যেকোনো সময় অনলাইনে পেমেন্টের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ফলে ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের বাইরেও বন্দরের মাশুল পরিশোধ করা যাবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাশুল পরিশোধ না হলে অটো পুল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পণ্য খালাসের পরবর্তী কার্যক্রমও অনলাইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। টিওএসের মাধ্যমে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট অনুমোদন করা হবে। এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে অকশন ডেলিভারি এবং ব্রেকবাল্ক অপারেশনও অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

বন্দরের যানজট নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। টিওএসের নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এতে কোন ট্রাক কখন বন্দরে প্রবেশ করবে এবং কোন পণ্য নিয়ে বের হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে বে টার্মিনালে স্লটভিত্তিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকেটিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বিভিন্ন সেবায় অটোমেশন ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় কার্যক্রমে দক্ষতা ও গতি বাড়ছে। এনসিটির কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থাও বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, যানজট কমানো, রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবহারকারীদের হয়রানি কমাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে জুলাইয়ে ডেলিভারি ডকুমেন্টেশনের প্রতিটি ধাপ টিওএসের মাধ্যমে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডেলিভারি অর্ডারের আবেদন থেকে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বাদ দেওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে টিওএসকে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাস্টমস কোনো কনটেইনার আটকে দিলে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হবে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় একই কাজের জন্য ব্যবহারকারীদের একাধিক দপ্তর বা ডেস্কে যেতে হবে না। অনলাইনে নথি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও জানা যাবে। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

ইতোমধ্যে ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর স্মার্ট পোর্ট ও পেপারলেস ব্যবস্থার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এক লগইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং জাহাজের গতিবিধি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17927 ,   Print Date & Time: Wednesday, 23 September 2026, 01:21:39 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh