
ইবি রিপোর্ট
মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বাড়াতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনের ভিত্তিতে পাঠানো বিভিন্ন নথিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (ক্যামেলকো)-এর যৌথ স্বাক্ষর থাকতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগ (বিএমএলপিডি) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের এমডি ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের পর পাঠানো পরিপালন প্রতিবেদন, বিশেষ আর্থিক বিবরণী, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব এবং অন্যান্য ব্যাখ্যায় এমডি বা সিইও ও ক্যামেলকোর যৌথ স্বাক্ষর থাকতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিপালন পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য নিয়মিত ও বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।
এসব পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ব্যাখ্যা অথবা প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়। পরিদর্শনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন বিষয়ে পরিপালন নিশ্চিত করতে বলা হয়
তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে, এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীর সরাসরি স্বাক্ষর ছাড়াই পরিপালন প্রতিবেদন ও ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এ ধরনের চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও পরিপালন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ কারণে নতুন নির্দেশনায় নথিতে কারা স্বাক্ষর করবেন, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঠানো পরিপালন প্রতিবেদন ও বিশেষ আর্থিক বিবরণীতে এমডি বা সিইও এবং ক্যামেলকোর যৌথ স্বাক্ষর থাকতে হবে।
একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কারণ দর্শানোর জবাব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ এসব নথি পাঠানোর আগে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে হবে।
তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের এমডি বা সিইও অনুপস্থিত থাকলে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যথানিয়ম অনুসরণ করে আইনগতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনার আওতায় রয়েছে দেশের তফসিলি ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং এমএফএস প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমের তদারকি এবং পরিপালন পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে নতুন নিয়মটি কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত ২০২৩), ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ এবং পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর আওতায় এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নিয়মের মাধ্যমে পরিদর্শন-পরবর্তী নথি প্রস্তুত ও দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তার যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।