• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > রাজস্ব আয়ে মোংলা বন্দরের রেকর্ড, বেড়েছে ৪০৮ কোটি টাকা

রাজস্ব আয়ে মোংলা বন্দরের রেকর্ড, বেড়েছে ৪০৮ কোটি টাকা

  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৭
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

রাজস্ব আয়, জাহাজ আগমন এবং কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং—বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি দেখিয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আয় করেছে বন্দরটি। একই সময়ে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি আয়ের পাশাপাশি আগের অর্থবছরের চেয়ে রাজস্ব বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ প্রবৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটরিয়ামে বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরিফ আহাম্মেদ মোস্তফা। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এসব তথ্য জানানো হয়।

বন্দর চেয়ারম্যান জানান, ওই অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। শতাংশের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও বেড়েছে কার্যক্রম। ২৫ হাজার টিইইউজ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে বন্দরটি। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ ক্ষেত্রে ৮ হাজার ২৫৮ টিইইউজ বা ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দর দিয়ে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি।

বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, স্টিভেডর ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এসব আলোচনা করা হচ্ছে। জাহাজের আগমন বাড়াতে ‘ইন্টারনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি’র মাধ্যমেও কার্যক্রম চলছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রমে গতি আনতে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত সভা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বর্তমানে বন্দরের বার্ষিক জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ হাজার ৫০০টি। কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ লাখ টিইইউজ। গাড়ি হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা ২০ হাজার ইউনিট।

সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সহায়ক জলযান সংগ্রহ, মোংলা বন্দরের আপগ্রেডেশন এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণের কার্যক্রম রয়েছে।

সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো চালু হলে শিপিং, সিএন্ডএফ, স্টিভেডরিং ও শ্রম খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাহাজ ও শিল্পকারখানার বর্জ্য সংগ্রহ এবং নিঃসৃত তেল অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। এর মাধ্যমে নদী ও সমুদ্রে জাহাজের বর্জ্য ফেলা বন্ধের পাশাপাশি পশুর চ্যানেল ও আশপাশের নদ-নদীর দূষণ কমানো এবং সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মোংলা বন্দরের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো ও তা ধরে রাখা। পাশাপাশি নিরাপদ ও দূষণমুক্ত নৌপথ নিশ্চিত করা, পুরোনো সহায়ক জলযান প্রতিস্থাপন এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া মোংলা বন্দরকে সরাসরি ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা, কনটেইনারবাহী জাহাজ বাড়ানো এবং সিঙ্গাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে সরাসরি ফিডার জাহাজ চলাচলের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে। খুলনা-মোংলা ও খুলনা-ভাঙ্গা সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17909 ,   Print Date & Time: Wednesday, 23 September 2026, 11:18:46 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh