• হোম > বাংলাদেশ > দুই বছরেও গবেষণায় মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্প, আর্থিক অগ্রগতি ৩৩ শতাংশ

দুই বছরেও গবেষণায় মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্প, আর্থিক অগ্রগতি ৩৩ শতাংশ

  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৭
  • ২০

---

 

ইবি রিপোর্ট

হারিয়ে যাওয়া ঢাকার মসলিনের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকারের নেওয়া প্রকল্পটি দুই বছর পেরিয়েও মূলত গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি আগস্ট পর্যন্ত ৩৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির ধীরগতি নিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় আলোচনা হয়।

প্রকল্প সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে প্রকল্পের জন্য ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৬১ লাখ টাকা। প্রকল্প শুরুর পর থেকে একই সময় পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ১৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়ন ও মসলিনের বস্ত্রপ্রযুক্তি নিয়ে মোট আটটি গবেষণা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটি কার্পাসের চাষও করা হয়েছে। পাশাপাশি সুতার কাউন্ট উন্নয়ন, উন্নত মানের সুতা তৈরি, প্রি-উইভিং ও পোস্ট-উইভিং প্রক্রিয়া এবং মসলিন কাপড় উৎপাদন নিয়ে গবেষণা চলছে।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সুতার কাউন্ট ও মানসম্পন্ন সুতা তৈরির কৌশল নিয়ে দুটি গবেষণার কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকাই মসলিন হাউসে সুতা ও মসলিন তৈরির কাজ চলছে এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, আসবাব, বই-জার্নাল ও কম্পিউটার সামগ্রী কেনার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে সময় কমে আসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, নিয়মিত সভা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রতি তিন মাসে গবেষণার অগ্রগতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাসভিত্তিক অগ্রগতিও ই-পিএমআইএস সফটওয়্যারে হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ফুটি কার্পাসের জাত উন্নয়ন নিয়ে আরও একটি শেয়ারিং কর্মশালা আয়োজন এবং প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদিত প্রস্তাবও সংশোধিত ডিপিপিতে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। গবেষণার মাধ্যমে ফুটি কার্পাসের উৎপাদন বাড়ানো, ব্যয় কমানো ও মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী বৈচিত্র্যময় মসলিন তৈরির দিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17899 ,   Print Date & Time: Thursday, 24 September 2026, 11:41:05 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh