• হোম > অর্থনীতি > বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করল এডিবি

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করল এডিবি

  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৮
  • ৩০

---

 

ইবি রিপোর্ট

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর আগে জুলাইয়ে সংস্থাটি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ধীর হয়েছিল। তবে এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমেছে। এতে অভ্যন্তরীণ ভোগ ও বিনিয়োগ শক্তিশালী হওয়ায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিতে সেবা ও কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

তবে উচ্চ সুদহার, ঋণের সীমিত সুযোগ, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা ও অন্যান্য কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত চাপে থাকতে পারে। রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি থাকবে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে এডিবি জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ শতাংশ থাকার পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। জ্বালানি সংকট, উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়, নৌ-পরিবহনে সম্ভাব্য বিঘ্ন, খাদ্যপণ্যে এল নিনোর বিলম্বিত প্রভাব এবং মুদ্রানীতি ধীরে শিথিল করার কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুদিন উঁচু থাকতে পারে।

রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি বাড়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ঘাটতি ছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকবে বলে আশা করছে এডিবি।

প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক নৌ-পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন, কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর ধীর প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর চাপ, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা, রাজস্ব সংস্কারে ধীরগতি, প্রত্যাশার চেয়ে কম উন্নয়ন ব্যয় এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর জিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হতে শুরু করলেও বাহ্যিক অভিঘাত ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে এ পুনরুদ্ধার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির সংস্কার দ্রুত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তার মতে, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এসব সংস্কার জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে এডিবি প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17871 ,   Print Date & Time: Thursday, 24 September 2026, 09:56:55 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh