
ইবি রিপোর্ট
দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের বড় অংশ পর্যাপ্ত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত। প্রায় ৭১ লাখ ৬০ হাজার উদ্যোগের জন্য মোট অর্থায়ন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার। কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখা এই খাতের বিকাশে ঋণের সীমাবদ্ধতা এখন অন্যতম বাধা হয়ে উঠেছে। তবে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যবসার বিস্তারের কারণে ডিজিটাল ঋণ এ সংকট কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার ঢাকায় ‘বাংলাদেশে এমএসএমই অর্থায়নের বাস্তুতন্ত্র ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উঠে আসে। দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের ‘ব্রিজিং দ্য গ্যাপ’ প্রকল্পের আওতায় লাইট ক্যাসেল পার্টনার্স গবেষণাটি পরিচালনা করে।
গবেষণায় দেখা যায়, দেশের এমএসএমই প্রতিষ্ঠানের ৯২ দশমিক ৬ শতাংশই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। অথচ মোট বিতরণ করা এসএমই ঋণের মাত্র ১৪ শতাংশ যায় এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্থসংকটে থাকার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার মতো ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ৯৭ শতাংশ ব্যবসায়ী মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করেন এবং ৮৭ শতাংশের অনলাইন উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ডিজিটাল ঋণের আগ্রহও লক্ষণীয়। আগে এ ধরনের ঋণ সম্পর্কে ধারণা না থাকা নারীদের ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
তবে বাজারে থাকা ডিজিটাল ঋণের সীমা ও মেয়াদ নিয়ে উদ্যোক্তাদের অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমানে এসব ঋণের বড় অংশ ৫০ হাজার টাকার নিচে এবং স্বল্পমেয়াদি। অথচ ৮৫ শতাংশ উদ্যোক্তা অন্তত তিন লাখ টাকা এবং ছয় মাসের বেশি মেয়াদের ঋণ চান।
গবেষণায় তাই পরীক্ষামূলক ডিজিটাল ঋণ, বিকল্প উপায়ে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ এবং ছোট ঋণকে আর্থিকভাবে কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থায়নের সুযোগ ব্যবসার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারলে ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিকাশে নতুন পথ তৈরি হতে পারে।