• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > তেলের দাম বাড়ল, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা

তেলের দাম বাড়ল, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা

  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৫১
  • ১৩

---

ইবি রিপোর্ট

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর রাজধানীর বাজারে নতুন করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনো অধিকাংশ পণ্যের দামে সরাসরি কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে পরিবহন ব্যয় বাড়লে এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

নিউমার্কেটের মুদিদোকানি মিরাজ আহমেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদের পণ্যের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ যদি বাড়ে, তাহলে সামনে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দামে পণ্য কিনি, পরিবহন খরচ বাড়লে সেই খরচও শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না কোন পণ্যের দাম কতটা বাড়বে।’

সরেজমিনে রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম ২৪০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ১০০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা পিস, জালি ৫০ টাকা পিস এবং কাঁচা কলা ৪০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কম দামে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজি ২০ টাকা।

হাতিরপুলে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সামনে বাজারে এর প্রভাব পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পরিবহন খরচ বাড়লে সবজির দামও বাড়তে পারে।’

নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, ‘এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সবজির বাজারে পড়েনি। তবে দূরের পাইকারি বাজার থেকে সবজি আনতে পরিবহন খরচ বাড়লে সামনে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।’

ডিম-মুরগির বাজারে বড় পরিবর্তন নেই

গত শুক্রবারের তুলনায় ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা নাজমা আক্তার বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে নিত্যপণ্যের দামও যদি বাড়ে, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সংসারের খরচ চালানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।’

মাছের বাজারেও আপাতত স্থিতিশীলতা

রাজধানীর মাছের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা যায়নি। পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেটের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখনো মাছের দাম বাড়েনি। তবে ঢাকার বাইরে থেকে মাছ আনা হয় বলে পরিবহন খরচ বাড়লে সামনে মাছের দামও বাড়তে পারে। তখন আমাদেরও বাড়তি দামে মাছ বিক্রি করতে হতে পারে।’

অন্যদিকে, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মুদি পণ্যের দামেও এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েনি। তবে পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন হলে সামনে বাজারে এর প্রভাব দেখা দিতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17834 ,   Print Date & Time: Tuesday, 22 September 2026, 07:04:38 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh