
ইবি রিপোর্ট
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। প্রিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের কারখানা চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গতকাল রাতে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালায় ফায়ার সার্ভিস। সেখান থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আজ সকালে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই তিনজনের মধ্যে দুজন মারা যান।
তিনি বলেন, “রাতে বিস্ফোরণের পর আশুলিয়া থেকে মোট তিনজন রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।”
তবে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এই কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুজনের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি।
ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে বর্তমানে একজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বার্ন ইউনিটের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হারুনুর রশিদ এক খুদে বার্তায় জানান, আহত নূর ইসলাম (৪০) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
এদিকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর আহত আরও অনেকে চিকিৎসা নিতে যান। হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন অর রশীদ টিবিএসকে জানান, গতকাল রাতে মোট ২৫ জন আহত ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসার জন্য আসেন।
তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে সুজন মিয়া (৩৫), নজরুল ইসলাম (৩৫) ও নূর ইসলাম (৪০) রয়েছেন।
হারুন অর রশীদ জানান, আহতদের মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
তবে নারী ও শিশু হাসপাতাল থেকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো সুজন মিয়া ও নজরুল ইসলামই সেখানে মৃত ঘোষণা করা ওই দুই ব্যক্তি কি না, তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর হতাহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে পৌঁছেছে।