• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে | বাণিজ্য > গরমে উৎপাদন ক্ষতি ঠেকাতে পোশাক কারখানায় বিনিয়োগের তাগিদ

গরমে উৎপাদন ক্ষতি ঠেকাতে পোশাক কারখানায় বিনিয়োগের তাগিদ

  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬
  • ১৬

---

ইবি রিপোর্ট

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পোশাক কারখানায় বাড়ছে অতিরিক্ত তাপের ঝুঁকি। এতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি উৎপাদন ও ব্যবসায়িক আয়েও প্রভাব পড়ছে। গবেষণা বলছে, শ্রমিকদের জন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে চার বছরের মধ্যেই সেই অর্থ উঠে আসতে পারে।

বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় প্রতিফলক রং ব্যবহার, ছাদে তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং বায়ু চলাচল বাড়ানোর মতো উদ্যোগ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে পারে। রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁরা অতিরিক্ত তাপ মোকাবিলায় কারখানাগুলোতে কী ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে, তার একটি মডেলও দিয়েছেন।

গবেষকদের মতে, এসব বিনিয়োগের পুরো খরচ শুধু সরবরাহকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। পণ্যের দামের মাধ্যমে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোও এর একটি অংশ বহন করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক সময় পোশাক কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার তুলনায় বেশি থাকে। বিশেষ করে ইস্তিরি ও ফিনিশিং বিভাগের শ্রমিকদের বেশি গরম পরিবেশে কাজ করতে হয়।

ঢাকার আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাস ধরে তাপমাত্রা পরিমাপ করে গবেষকেরা এসব তথ্য পেয়েছেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে কারখানাগুলোর বার্ষিক আয়ের ৪ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

এর ফলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি উৎপাদক ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে গবেষণায় বিষয়টি সামনে এসেছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনেও অতিরিক্ত গরমের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। একই সময়ে এ অঞ্চলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আরও ২৮ কোটি বাড়বে। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জেসন জাড রয়টার্সকে বলেন, প্রতিবেদনটি ক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণ বুঝতে সহায়তা করবে। শীতলীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের প্রয়োজন থাকলেও এর খরচ সম্পর্কে ধারণা না থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন বলেও জানান তিনি।

জাড আরও বলেন, গত এক বছরে পোশাক ব্র্যান্ডগুলো এ ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। গবেষকদের সঙ্গে আলোচনায় তারা জানতে চেয়েছে, কারখানার তাপ মোকাবিলায় বিনিয়োগ করলে কত সময়ে সেই অর্থ উঠে আসবে।

এর পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা, প্রশমন ব্যয় এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস নিয়েও ব্র্যান্ডগুলো উৎপাদনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছে।

তিন বছর আগের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, অতিরিক্ত গরম ও বন্যার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি আয় থেকে ৬৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি ঝুঁকির বিষয়টি পোশাকশিল্পও ধীরে ধীরে বিবেচনায় নিচ্ছে। তবে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাস্তবে কতটা অর্থ ব্যয় করবে, তা এখনো নির্দিষ্ট নয়।

গত সপ্তাহে আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (এএএফএ) চরম তাপমাত্রা থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, কোনো কারখানার একক বিনিয়োগে পর্যাপ্ত আর্থিক সুফল নাও আসতে পারে।

এ কারণে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ব্যয়ের একটি অংশ ব্র্যান্ডগুলোর বহন করা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। এএএফএর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট নেট হারম্যান বিবৃতিতে বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতা হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থার মূল শক্তি শ্রমিকদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17812 ,   Print Date & Time: Monday, 21 September 2026, 12:25:49 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh