• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে > সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা আধুনিকায়নে অধ্যাদেশ সংশোধনের উদ্যোগ

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা আধুনিকায়নে অধ্যাদেশ সংশোধনের উদ্যোগ

  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২
  • ২৩

---

ইবি রিপোর্ট

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়ানো ও দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষায় নতুন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ খসড়া অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে। এতে সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি ক্রয়কার্যে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

খসড়ায় ক্রয় চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিধান সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালিতে আধুনিকায়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ণায়কের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়নের বিধানও রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত ‘রেটেড ক্রাইটেরিয়া’ ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে ক্রয় প্রস্তাব মূল্যায়ন করা যাবে।

এ ছাড়া সম্পদের সুষম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান আরও স্পষ্ট করার প্রস্তাবও রয়েছে। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় এসব পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই অধ্যাদেশটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

এর আগে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দরপত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি জাতীয় সংসদের আলোচনায়ও আসে। গত ৩০ আগস্ট বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান।

৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, বিদ্যমান পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিসহ (ওটিএম) বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি জনগণের স্বার্থে বিবেচনায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।

আলোচনার একপর্যায়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি দরপত্রে কথিত ‘সিন্ডিকেট’ ও প্রতিযোগিতার বাধা দূর করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ও রুলস যুগোপযোগী করার উদ্যোগের কথা জানান।

তিনি বলেন, আগের সময়ে আইন ও বিধির আওতায় এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যার ফলে বিরোধী রাজনৈতিক মতের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগ সরকার শনাক্ত করেছে। তবে রাতারাতি সিদ্ধান্ত না নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের জন্য মন্ত্রিসভার একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে তিনি একাধিক বৈঠক করেছেন এবং একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

এরপর মন্ত্রিসভায় ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। নতুন খসড়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ানো, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, ‘রেটেড ক্রাইটেরিয়া’ অনুযায়ী মূল্যায়ন, সীমিত দরপত্রের প্রয়োগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17806 ,   Print Date & Time: Monday, 21 September 2026, 02:24:57 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh