
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা নাবিল আলমগীরের সহপ্রতিষ্ঠিত ফিনটেক স্টার্টআপ ফিন ডটকম ২ কোটি ডলারের বীজ তহবিল পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী ফরচুনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক ফিন ডটকম প্রতিষ্ঠা করেছেন নাবিল আলমগীর ও মুস্তাফা দার। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এনেছে। গত আগস্টে বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ হয়।
এই বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছে এক্সপা ও উবারের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্যারেট ক্যাম্প। এতে আরও বিনিয়োগ করেছে কয়েনবেস ভেঞ্চারস, টেনেট ফান্ড এবং ফিগারের প্রতিষ্ঠাতারা।
এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছে মেশের প্রতিষ্ঠাতা বাম আজিজি। রয়েছে সেকেন্ড সাইট ভেঞ্চারস এবং উপসাগরীয় ও আফ্রিকার রাজপরিবার ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের কার্যালয়গুলো।
ফিন ডটকম মূলত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সীমান্ত পেরিয়ে অর্থ স্থানান্তর সহজ করার প্রযুক্তি তৈরি করে। স্টেবলকয়েনের জনপ্রিয়তা বাড়ায় এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজনও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফরচুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ভোক্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এবং পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার ফিন ডটকমের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করা যায়।
এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল ওয়ালেটে অর্থ যোগ করার সুবিধাও রয়েছে। ফিন ডটকমের দাবি, তাদের প্রযুক্তি মোট ৮০ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নির্দিষ্ট গ্রাহকদের নাম প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে কোম্পানিটির মূল্যায়ন কত, সেটিও জানানো হয়নি।
ফরচুন জানিয়েছে, নাবিল আলমগীর বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি কুয়েতে বেড়ে ওঠেন এবং কিশোর বয়সে নিউইয়র্কে চলে যান।
অন্য সহপ্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা দারের জন্ম পাকিস্তানে। শৈশবের একটি সময় তিনি সৌদি আরবে কাটান। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যান।
দুই উদ্যোক্তাই ফরচুনকে জানিয়েছেন, তাঁদের বাবা-মা বিদেশে থাকা স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠাতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়ে।
মুস্তাফা দার এর আগে ২০১২ সালে ২৪/৭ জেট নামে একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ২০২৩ সালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসেন।
নাবিল আলমগীর এর আগে লাঞ্চবক্স নামে একটি রেস্তোরাঁ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ফিন ডটকমের বর্তমান কার্যক্রমেও তাঁদের আগের অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে।
ফরচুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিন ডটকম দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই অঞ্চলগুলোর সঙ্গে দুই উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে।
নিউইয়র্কের পাশাপাশি ফিন ডটকমের কার্যালয় রয়েছে লাস ভেগাস, দুবাই, বেঙ্গালুরু, লাহোর ও ঢাকায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম একাধিক অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিনিয়োগ পাওয়ার খবরটি জানিয়েছেন নাবিল আলমগীর। একই পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, গত ১২ মাসে ফিন ডটকম সাতটি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করেছে।
নাবিল আরও বলেন, অনেক মানুষ ইতিমধ্যে ফিন ডটকমের সেবা ব্যবহার করে থাকতে পারেন। তবে তাঁরা সেটি ব্যবহার করছেন, তা হয়তো নিজেরাও জানেন না।