• হোম > অর্থনীতি > তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে

তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৩
  • ১০১

---

ইবি রিপোর্ট

উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামের এ কর্মসূচিতে নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন পেতে পারেন। এর অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ, বাকি অর্ধেক অনুদান।

কর্মসূচিটির লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করা। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবসা গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। দেশের অন্যান্য জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উদ্যোক্তাদের জন্য আবেদন গ্রহণ চলবে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করে। পরে তা দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, একজন উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও প্রস্তাব মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ থাকলেও প্রত্যেক উদ্যোক্তা এ পরিমাণ পাবেন না। সর্বোচ্চ অর্থায়নের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেমন, কোনো ব্যবসায় ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে ছয় লাখ টাকা ঋণ ও ছয় লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে পাওয়া অর্থ থাকলেও তা সামগ্রিক অর্থায়ন পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ ব্যবসার ধরন, সম্ভাব্যতা, প্রয়োজনীয় অর্থ এবং প্রস্তাবিত ব্যয় যাচাই করেই অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

আবেদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফশিলি ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করতে হবে। পূরণ করা ফরম সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দেওয়া যাবে। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং, যদি থাকে, দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে, যা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবেও বিবেচিত হবে।

তবে কর্মসূচিতে নির্বাচিত হলেই ঋণ নিশ্চিত হবে না। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় শুধু অর্থায়ন নয়, ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আবেদনকারীদের আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরির সহযোগিতা এবং বাজার সংযোগের সুযোগ পাবেন।

কর্মসূচির সুবিধা নিতে কোনো পর্যায়ে তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই, সিআইবি ও লেনদেন তদারকিসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

উপজেলা পর্যায়ের তরুণদের ব্যবসায় যুক্ত করে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য। অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারসংযোগের সুযোগ থাকায় নির্বাচিত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় সহায়তা দেওয়ার একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হয়েছে এ উদ্যোগে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17792 ,   Print Date & Time: Thursday, 5 November 2026, 05:31:30 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh