• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে | ফ্যাশন > টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে চার দিনের আয়োজন

টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে চার দিনের আয়োজন

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০৪
  • ১৭

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের ঐতিহ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে টাঙ্গাইল শাড়ি। এই বুননশিল্পের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন। জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে থাকছে প্রদর্শনী ও টাঙ্গাইল শাড়ির মেলা।

‘ঐতিহ্য, সম্প্রীতি, তাঁত: টাঙ্গাইলের তাঁতের ঐতিহ্য উদ্যাপন’ শীর্ষক আয়োজনটি শুরু হয়েছে আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে। টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লির লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে টাঙ্গাইল শাড়ির বয়নশিল্প ইউনেসকোর ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’তে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই স্বীকৃতির পর টাঙ্গাইলের তাঁতের ঐতিহ্য আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা এগারোটায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। তিনি বলেন, ‘তাঁত শিল্পের পাশাপাশি আমাদের আরও বেশ কিছু ঐতিহ্য ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এগুলোকে আমরা বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করব।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভীনা মনীর চিঠি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রধান সুজান ভাইস।

সুজান ভাইস বলেন, ‘আমরা অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বলি জীবন্ত ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য জাদুঘরের বাক্সে রেখে দেওয়ার জিনিস নয়। এটি আসলে কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। জীবন্ত ঐতিহ্য কোনো একটি বস্তুর চেয়ে বরং মানুষের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। যেমন মানুষ কীভাবে কোনো কিছু তৈরি করে, কী দিয়ে তৈরি করে, তাদের কী ধরনের দক্ষতা আছে এবং এর সঙ্গে তাদের জীবিকা কীভাবে যুক্ত—এসব বিষয়। টাঙ্গাইল শাড়ি বয়ন এমনই একটি ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য শুধু বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ইনট্যানজিবল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি) হিসেবেও স্বীকৃত। এটি বিশ্ব এবং মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ। এই ঐতিহ্য বিশ্বসংসারে আমরা কীভাবে সহনশীলতা ও একসঙ্গে বসবাস করতে শিখেছি, তার কথাও বলে।’

টাঙ্গাইল শাড়ির বুননশিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, ‘তরুণ ডিজাইনার, সরকারি পৃষ্ঠপোষক ও ঐতিহ্য নিয়ে পড়াশোনা করছেন, এমন তরুণদের গবেষণাকে সমন্বয় করা এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি।’

এদিকে আজ শনিবার দুপুর ১টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যালারির সংলগ্ন লবিতে শুরু হয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ির মেলা। প্রদর্শনী ও মেলা চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা এসব আয়োজন দেখতে পারবেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17775 ,   Print Date & Time: Sunday, 20 September 2026, 10:49:40 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh