
ইবি রিপোর্ট
বিরোধীদলের লংমার্চ নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ নামে এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। পরে জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যাহার হওয়া খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে জিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তাকে জিএমপি হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিরোধীদলের লংমার্চ উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস মোড়ে একটি পথসভার আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টার দিকে সেখানে বিরোধীদলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।
পথসভাকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ও সভাস্থলে মোতায়েন ছিলেন। জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পথসভা শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লংমার্চ নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে লংমার্চের গন্তব্য ও দাবিগুলোর পাশাপাশি কর্মসূচির সময়সূচি, জনসমাগম এবং নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
জিএমপির ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, লংমার্চটি সকাল ৯টার দিকে জিএমপি-গাজীপুর এলাকায় প্রবেশ করে। পরে সকাল ১০টায় ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চটি পুনরায় যাত্রা করে।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, কর্মসূচিতে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। লংমার্চের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, উপপুলিশ কমিশনার, অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
পোস্টটি প্রকাশের পর বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর সমালোচনা করেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান।
এরপর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টটি প্রথমে সংশোধন করা হয়। পরে সেটি পুরোপুরি মুছে দেওয়া হয়।
এরপরই খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে প্রত্যাহার এবং তাকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা।
তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।’
ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টের কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় জিএমপির অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও তা প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শোকজের জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।