
ইবি রিপোর্ট
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মৃত্যুতে শোক ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। অপ্রতিমের বয়স ‘তেরো’ সংখ্যাটি শহরের সব সরকারি ভবনের কপালে কালি দিয়ে লিখে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে শামসুজ্জামান দুদু এ কথা বলেন। তাঁর পোস্টে অপ্রতিমের বয়স, শৈশব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা কথা তুলে ধরে ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
ফেসবুক পোস্টে দুদু লেখেন, ‘অপ্রতিমের বয়স তেরো। এই সংখ্যাকে আজ আমি শহরের সব সরকারি ভবনের কপালে কালি দিয়ে লিখে দিতে চাই।’
এর ব্যাখ্যায় তিনি লেখেন, ১৩ বছর বয়সে একটি শিশুর পৃথিবী হওয়ার কথা স্কুলের মাঠ, বন্ধু, মায়ের রান্নাঘর, পরীক্ষার খাতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্নকে ঘিরে। কিন্তু অপ্রতিমের ক্ষেত্রে সেই স্বাভাবিক জীবন আর এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়নি বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
দুদু তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, অপ্রতিমের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন তার মৃত্যুর কারণ খোঁজা হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফিরে আসেনি।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তৎপরতা চালান।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা কীভাবে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
অপ্রতিমের মৃত্যু ঘিরে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।