• হোম > দেশজুড়ে > অপ্রতিম হত্যা: ছেলের ঘর থেকে আইফোন উদ্ধারের কথা স্বীকার তুহিনের মায়ের

অপ্রতিম হত্যা: ছেলের ঘর থেকে আইফোন উদ্ধারের কথা স্বীকার তুহিনের মায়ের

  • রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:১০
  • ২৬

---

 

ইবি রিপোর্ট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে আটক তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া আইফোনটি তুহিনের কাছে থাকার বিষয়টি তার মা স্বীকার করেছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তুহিনের বাসায় গেলে তিনি জানান, ছেলের কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধারের ঘটনায় তারাও কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে অপ্রতিমের পরিবারের মতো তারাও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান বলে জানান তিনি।

তুহিনের মা বলেন, ‘আমিও চাই। আমার সন্তান নাই, আমারও কষ্ট লাগে, ওনারও কষ্ট লাগে। কিন্তু এতোটুকু বলতাম পাইরাম, ওনার সন্তান তো চইলা গেছে, সন্তান তো আইতো না। সুষ্ঠু বিচার হোক তার, প্রমিজ চাই। সবাই সবাই সন্তানের লাইগা চাইবো। আমি কী কমু, আমি একজন মা, আমার কী কওনের আছে?’

তুহিনের পড়াশোনার বিষয়ে তার মা জানান, স্কুলে একবার ঝগড়া হওয়ার পর আর পড়াশোনা করেনি সে। এরপর বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করবে বলে জানিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘একবার স্কুলের মধ্যে ঝগড়া হইছিল। এরপরে আর পড়াশোনা করে নাই। কয়, “আমি আর পরীক্ষা দিতাম না, আমি আমার আব্বুর ব্যবসা দেখবাম।”’

অপ্রতিমের আইফোন তুহিনের কাছে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তার মা বলেন, তুহিনের ঘর থেকেই ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে পুলিশ তার ছেলেকেই বেশি সন্দেহ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ঘটনার প্রকৃত সত্য সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন বলে জানান।

তুহিনের মা বলেন, ‘এইডা তো আমার সামনে থেইকাই উদ্ধার হইছে। যেহেতু ছেলের ঘর থেইকা পাইছে, তো এটা তো আমার ছেলেই আনছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অওন যদি আরও দুইজনের সঙ্গে আছিল, এটার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাও তো উদ্ধার করছে আমার ছেলের কাছ থেইকা। অওন তিনজনই একসঙ্গে আছিলো। তখন ওগো কাছে তো আছিলো না।’

তার ভাষ্য, ‘অওন তো বেশি সন্দেহ করবো আমার ছেলেরেই। আমি তো সত্য-মিথ্যা জানি না।’

তুহিনের মায়ের এসব বক্তব্য তার নিজের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে তুহিন বা অন্য আটক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের কর্মস্থলেই অনুষ্ঠিত হয় তার সন্তানের প্রথম নামাজে জানাজা।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সে।

সন্ধ্যার পরও বাসায় ফিরে না আসায় অপ্রতিমের মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ তার সন্ধানে তৎপরতা শুরু করে।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলায় অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়।

পরে পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার হওয়ায় তদন্তে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে আইফোন উদ্ধার হওয়া এবং সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের ভিত্তিতে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্তের অগ্রগতি ও প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করবে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17725 ,   Print Date & Time: Sunday, 20 September 2026, 10:08:05 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh