
ইবি রিপোর্ট
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাওয়া ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা আর থাকছে না। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এই সুবিধা বিলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে।
নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখও ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ওই তারিখ থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়েছে বলে ধরা হবে। ১ জুলাইয়ের পর প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত যারা এই সুবিধা পেয়েছেন, তা নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য বকেয়া অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। সেখানে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত আহরিত বিশেষ সুবিধার অর্থ নতুন আদেশের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রাপ্য বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে বিশেষ সুবিধা হিসেবে পাওয়া অর্থ পরবর্তী পাওনার হিসাবের সঙ্গে সমন্বিত হবে।
তবে এ ক্ষেত্রে অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের জন্য আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীরা অবসরোত্তর ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বিশেষ সুবিধা পেতেন, সেই হারে সুবিধা পাবেন।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংখ্যাও বেশ বড়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৫টি। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭০৯ জন।
এই শিক্ষকদের মধ্যে পুরুষ শিক্ষক ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। নারী শিক্ষক রয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭০ জন। নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিশেষ সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত এসব শিক্ষকের বেতন কাঠামোতে প্রভাব ফেলবে।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত আরও ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক আগামী ১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর বিশেষ সুবিধা বাতিলের পাশাপাশি বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের বিধানও কার্যকর হবে। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে নতুন বেতন কাঠামোর বিধান অনুসরণ করা হবে।