
ইবি রিপোর্ট
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে বিভাগীয় বয়কটের মুখে পড়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। পরে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও সেই পরীক্ষাতেই অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এবার তাকে এক বছরের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম আয়ান আবদুল্লাহ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার হলে তার হাতে কাগজের চিরকুট (নকল) পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পরবর্তী এক বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আয়ান আবদুল্লাহ মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৫ জুলাই ঢাকা মেডিকেল মোড়ে ছাত্রলীগের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। ওই কর্মসূচিতে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়নের নেতৃত্বে অবস্থান নেওয়া হয়।
আয়ান আবদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীও ছিলেন। গতবছর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে তার পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গিয়েছিল।
ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সে সময় গুঞ্জন ছিল, আয়ান আবদুল্লাহ ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলে ছিলেন। তবে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেন।
এদিকে সম্প্রতি একাডেমিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, ৬৪ শিক্ষার্থীকে তিন ধরনের মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষা ও ১ বছর, পরীক্ষা ও ২ বছর এবং পরীক্ষা ও ৩ বছর মেয়াদে শাস্তি।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকায় হল শাখা ছাত্রদলের একজন এবং হল সংসদের একজন সদস্য রয়েছেন। একই তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার নামও রয়েছে।
বিভাগীয় বয়কটের পর আয়ান আবদুল্লাহকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি এবং পরবর্তী শাস্তির বিষয়ে জানতে বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।