\
ইবি রিপোর্ট
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের লংমার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। দলীয় কোনো দাবি নয়, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের এ লংমার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমরা দলীয় দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামিনি। আমরা গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।”
তিনি বলেন, “বিএনপি পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে।” এ সময় আন্দোলন সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।
পথসভায় এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, “আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না। আমরা সংস্কার চাই, সংস্কার করতে হবে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, “আমরা অধিকার আদায়ের জন্য উত্তর জনপদে লংমার্চে যাচ্ছি। গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরবে।”
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “গণভোটের গণরায় না মেনে সরকার প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমরা সরকারের ব্যর্থতা কোটি কোটি মানুষকে জানাচ্ছি। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।”
এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গী হয়ে বহরটি গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস সড়কের পথসভায় যোগ দেয়।
গাজীপুরের পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস সড়ক, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।