• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে | বিদ্যুৎ ও জ্বালানি > গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও ঈশ্বরদী ইপিজেডে বাড়ছে রপ্তানি আয়

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটেও ঈশ্বরদী ইপিজেডে বাড়ছে রপ্তানি আয়

  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২৪
  • ১৫

---

ইবি রিপোর্ট

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকট দেশের শিল্প খাতে প্রভাব ফেললেও রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেড। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ইপিজেড থেকে ২৮৯ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ০৭ মিলিয়ন ডলার বা ১২ শতাংশের বেশি।

পাকশীতে অবস্থিত ঈশ্বরদী ইপিজেড উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এখানে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, উইগ, ব্যাটারি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লাভস, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, কেমিক্যাল, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল, ইয়ার্ন ও রাবার পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের ব্যবস্থাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈশ্বরদী ইপিজেডের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। কারখানাগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানি-বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে চলছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরো বাড়বে।’

তিনি জানান, সম্প্রতি তিনটি টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের জন্য চীনের তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এসব কারখানা চালু হলে কয়েক হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু করা গেলে ইপিজেডে নতুন কারখানা স্থাপন ও বিনিয়োগ আরো বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ঈশ্বরদী ইপিজেড উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রচলিত রেডিমেড গার্মেন্টসের বাইরে এখানে বহুমুখী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতেও ভূমিকা রাখছে।

তিনি জানান, দেশের আটটি ইপিজেডের মধ্যে মোট রপ্তানির ভিত্তিতে ঈশ্বরদী ইপিজেডের অবস্থান সপ্তম। দেশের প্রথম লিড প্লাটিনাম সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি “ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও’ও এখানে অবস্থিত। পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বরদী ইপিজেড পাকশীর পদ্মা নদীর তীরে ৩০৮ দশমিক ৯৭ একর জমিতে গড়ে উঠেছে। ১৯৯৬ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু হয়। ইপিজেডের ৩২৪টি প্লটই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি কারখানা চালু এবং আরও ৯টি বাস্তবায়নাধীন।

এখানে সম্পূর্ণ বিদেশি, দেশি-বিদেশি যৌথ এবং সম্পূর্ণ দেশি—তিন ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি। বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কানাডা ও মার্শাল আইল্যান্ড। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিজস্ব সাবস্টেশন ছাড়াও পানি ও গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে ঈশ্বরদী ইপিজেডে ২০ হাজার ৯২৯ জন শ্রমিক কর্মরত। এর মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৩৯৫ এবং নারী ১৪ হাজার ৫৩৪ জন। এছাড়া ৮৫ জন বিদেশি কর্মী রয়েছেন।

বেপজা সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ২৫৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১৭ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১১ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। ফলে পাঁচ বছরে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17664 ,   Print Date & Time: Saturday, 19 September 2026, 10:37:56 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh