• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ > গ্রিনল্যান্ডে ‘স্থায়ী’ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের, চুক্তির শর্ত নিয়ে অস্পষ্টতা

গ্রিনল্যান্ডে ‘স্থায়ী’ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের, চুক্তির শর্ত নিয়ে অস্পষ্টতা

  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:০৬
  • ১২

ডেনমার্ক। ছবিঃ সংগৃহীত

 

ইবি রিপোর্ট

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং দ্বীপটিতে মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ও সংবেদনশীল বিনিয়োগ ঠেকাতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, নতুন সমঝোতার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে। তিনি চুক্তিটিকে মেয়াদহীন বা ‘ইনফিনিট লাইফ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন, সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা কিংবা সংবেদনশীল অর্থনৈতিক বা কৌশলগত বিনিয়োগ করতে পারবে না।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। তবে নতুন কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কোথায় বা কীভাবে নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ১৯৫১ সালের একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় দেশটি সেখানে সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা এবং আকাশসীমা ব্যবহারের বিস্তৃত অধিকার পেয়ে আসছে। নতুন সমঝোতার মাধ্যমে এসব অধিকার আরও দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে সংবেদনশীল বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। চীন ও রাশিয়ার মতো দেশকে এ ধরনের বিধিনিষেধের আওতায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পৃথক এক বিবৃতিতে বলেন, এই সমঝোতা গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে ধরে রাখবে এবং প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোকে দ্বীপ ও আশপাশের অঞ্চল থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে।

ট্রাম্পের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের’ কথা বলা হলেও, নতুন সমঝোতার অর্থ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হয়ে যাচ্ছে—এমন নয়।

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে তাদের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ফলে ট্রাম্প ঘোষণা দিলেও এর পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো এবং বাস্তব প্রয়োগের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।

নতুন সমঝোতার সুনির্দিষ্ট শর্তাবলির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কতটা সামরিক ও কৌশলগত অধিকার পাবে এবং নতুন করে কতগুলো ঘাঁটি স্থাপন করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত স্পষ্টতা নেই।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নতুন চুক্তির বড় পরিবর্তন হবে তখনই, যদি যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক বা গ্রিনল্যান্ডের পৃথক অনুমোদন ছাড়াই নতুন সামরিক স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ পায়। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তন করছে না।

ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই সমঝোতাকে কূটনৈতিক সমাধানের একটি কাঠামো হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষ হওয়ার পরই এর বাস্তব প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/17659 ,   Print Date & Time: Saturday, 19 September 2026, 09:44:32 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh