
ইবি রিপোর্ট
রাজধানীর আটটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ঢাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। নগরীর প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসব গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আড়াই শ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন যানবাহন ও ব্যক্তিকে তল্লাশির আওতায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ অভিযানে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ থেকে পৃথকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রমনা বিভাগ ৩০ জন, লালবাগ বিভাগ ৩৪ জন, ওয়ারী বিভাগ ৬৪ জন এবং মতিঝিল বিভাগ ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ ছাড়া তেজগাঁও বিভাগ ৯২ জন, মিরপুর বিভাগ ১২০ জন, গুলশান বিভাগ ৩৭ জন এবং উত্তরা বিভাগ ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোয়েন্দা বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৬ জনকে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১৫ জনে।
অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরকসংশ্লিষ্ট উপাদান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি প্রিসিশন পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১০টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৩টি চাপাতি, ৫টি চাকু, বিস্ফোরিত ককটেলের অবশিষ্টাংশ এবং ৫৩টি পেরেক। অভিযানে ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা এবং ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইনও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান থেকে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি একটি গাড়ি, ৫টি মোবাইল ফোন ও ৭ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান এবং চেকপোস্টের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চেকপোস্ট, তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।